খামেনির দাফন উপলক্ষে ইরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দেওয়া হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের - dainikdristy

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

LANGUAGE

Select Language / ভাষা নির্বাচন করুন

Post ad

Saturday, July 4, 2026

খামেনির দাফন উপলক্ষে ইরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দেওয়া হয়েছে, দাবি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছাতে আগ্রহী। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন ও শোকানুষ্ঠানের জন্য ওয়াশিংটন তেহরানকে ‘এক সপ্তাহ সময়’ দিয়েছে।



স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ জুলাই) রাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০তম বার্ষিকী উদ্‌যাপনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সাউথ ডাকোটার মাউন্ট রাশমোরে দেওয়া ভাষণে ট্রাম্প এসব মন্তব্য করেন।


ভাষণে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক শক্তি ও বৈশ্বিক প্রভাবের কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমরা একদিনেই ভেনেজুয়েলাকে হারিয়েছি এবং ইরানকেও কঠোরভাবে আঘাত করেছি। তারা এখন সমঝোতা করতে মরিয়া।’

 

ট্রাম্প আরও দাবি করেন, ‘আমরা ভালো মানুষ বলেই তাদের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য এক সপ্তাহ সময় দিয়েছি।’ আজ শনিবার (৪ জুলাই) আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ট্রাম্পের এই বক্তব্য প্রকাশ করা হয়েছে।

 

ট্রাম্পের এই বক্তব্য এমন সময়ে এলো, যখন তেহরানে খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠান চলছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষ অংশ নিচ্ছেন এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

 

আরও পড়ুন: খামেনির জানাজা / ‘আমেরিকার মৃত্যু’ ও ‘প্রতিশোধ’ স্লোগানে মুখর তেহরান

 

তবে ট্রাম্পের ‘ইরানকে এক সপ্তাহ সময় দেওয়া’ সংক্রান্ত দাবির বিষয়ে ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রও এ বিষয়ে আলাদা কোনো সরকারি ব্যাখ্যা প্রকাশ করেনি।

 

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ আগ্রাসনের প্রথম দিন নিহত হন ৮৬ বছর বয়সি খামেনি। ওই হামলায় তার পরিবারের কয়েকজন সদস্যও প্রাণ হারান। ওই সময় তিনি তেহরানে তার আবাসিক ভবনে ছিলেন।

 

গত মার্চে খামেনির দাফন হওয়ার কথা ছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে তীব্র সংঘাতের কারণে তা পিছিয়ে দেওয়া হয়। যুদ্ধবিরতির অবসরে চার মাস পর রাষ্ট্রীয়ভাবে তার জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। খামেনির দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সাত দিন ধরে চলবে যা গত শুক্রবার (৩ জুলাই) শুরু হয়েছে। 

 

আজ শনিবার (৪ জুলাই) সকালে রাজধানী তেহরানের ইমাম খোমেনি গ্রান্ড মোসাল্লা কমপ্লেক্স-এ খামেনির শেষ বিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। এ সময় গ্রান্ড মোসাল্লা ও এর আশপাশের এলাকায় রীতিমতো জনসমুদ্র তৈরি হয়।

 

আরও পড়ুন: খামেনির কফিনের ওপর লাল পতাকার অর্থ কী

 

অনুষ্ঠান শুরুর আগেই পুরো প্রাঙ্গণ শোকার্ত মানুষের উপস্থিতিতে পূর্ণ হয়ে যায়। অনেককে কয়েক কিলোমিটার পথ হেঁটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছাতে দেখা গেছে। তেহরানের বিভিন্ন মেট্রো স্টেশনেও সকাল থেকে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করেন হাজারো মানুষ।

 

অনুষ্ঠানস্থলে বহু শোকাহত লাল পতাকা বহন করেন, যা ইরানে প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে পরিচিত। তাদের অনেককে ‘আমেরিকার মৃত্যু’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দিতে দেখা যায়।

 

খামেনির রাষ্ট্রীয় শেষ বিদায় অনুষ্ঠানে ইরানের বিভিন্ন প্রদেশ থেকে লাখো মানুষ অংশ নিয়েছেন। একই সঙ্গে পাকিস্তান, ইরাক, তুরস্ক, সৌদি আরব, কাতার, রাশিয়া, চীন, বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদল এবং সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও), ইসলামি সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি) ও ডেভেলপিং-৮ (ডি-৮)-এর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত রয়েছেন।

 

শেষ বিদায় অনুষ্ঠান ঘিরে ইরানজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং রাজধানী তেহরানের বিভিন্ন সড়কে যান চলাচলে বিশেষ নিয়ন্ত্রণ আরোপ করা হয়েছে।

 

আরও পড়ুন: খামেনির লাশ এতদিন কোথায় ছিল

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages