ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় এক জাতিসংঘ কর্মীকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। গত মাসে ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ করে এই হত্যাকাণ্ড ঘটালেও এর দায় অস্বীকার করে তারা। খবর বিবিসির।
গত ১৯ মার্চ গাজার দেইর আল-বালাহ এলাকায় জাতিসংঘের একটি ভবনে গোলাবর্ষণ করা হয়। এতে ভবনটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সংস্থাটির এক কর্মী নিহত হন। তবে ইসরাইল সেনাবাহিনী (আইডিএফ) বলে, তারা ওই ভবনে আক্রমণ করেনি।
প্রায় এক মাস পর গত বৃহস্পতিবার (২৪ এপ্রিল) আইডিএফ জানায়, ঘটনার তদন্তের প্রাথমিক ফলাফলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে যে, তাদের সেনারা ভবনটিতে ‘শত্রুর উপস্থিতি’ থাকার কথা ভুলভাবে চিহ্নিত করে এবং এক জাতিসংঘ কর্মীকে হত্যা করে।
আইডিএফের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘শত্রুর উপস্থিতি আছে এমন মূল্যায়নের পর ভবনটিতে হামলা চালানো হয়েছিল এবং সেনাবাহিনী এটাকে জাতিসংঘের স্থাপনা হিসেবে চিহ্নিত করতে ভুল করেছে।’
আরও বলা হয়েছে, তদন্তের এই প্রাথমিক তথ্য জাতিসংঘের সাথে বিনিময় করা হয়েছে এবং পরবর্তীতে সম্পূর্ণ তদন্ত প্রতিবেদনও সরবরাহ করা হবে। বিবৃতি অনুযায়ী, ‘আইডিএফ এই গুরুতর ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছে এবং ভবিষ্যতে এই ধরনের ঘটনা রোধে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কার্যকরী শিক্ষা গ্রহণের জন্য পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।’
যুদ্ধবিরতি ভেঙে গত ১৮ মার্চ ইসরাইল গাজায় নতুন করে হামলা শুরু করে। এর একদিন পরই এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি ঘটে। ট্যাঙ্ক থেকে গোলাবর্ষণ করা হলে বুলগেরিয়ার নাগরিক জাতিসংঘ কর্মী মারিন ভ্যালেভ মারিনোভ নিহত এবং জাতিসংঘের আরও পাঁচজন কর্মী গুরুতর আহত হন।
সেই সময় জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এই ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানান। জাতিসংঘ মানবাধিকার অফিসের তথ্য মতে, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর গাজায় ইসরাইলি সামরিক আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৪১২ জন ত্রাণ সহায়তাকর্মী নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে ২৯১ জনই জাতিসংঘ কর্মী।

No comments:
Post a Comment