সন্তানের জন্য বুকফাটা আর্তনাদে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন পারভেজের মা - dainikdristy

Breaking

Home Top Ad

Post Top Ad

LANGUAGE

Select Language / ভাষা নির্বাচন করুন

Post ad

Sunday, April 20, 2025

সন্তানের জন্য বুকফাটা আর্তনাদে বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন পারভেজের মা

 রাজধানীর বনানীতে প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম পারভেজ (২২) হত্যার ঘটনায় তার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। সন্তানের শোকে পারভেজের বাবা-মায়ের আর্তনাদে ভারি হয়ে উঠেছে চারপাশের পরিবেশ। বারবার জ্ঞান হারাচ্ছেন মা।


তুচ্ছ বিষয় নিয়ে ছুরিকাঘাতে পারভেজের মৃত্যু মানতে পারছেন না তার স্বজন ও এলাকাবাসী। তারা হত্যাকারীদের অবিলম্বে গ্রেফতার ও ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন।


পারভেজ ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার ৫ নম্বর বিরুনীয়া ইউনিয়নের কাইচান গ্রামের কুয়েতপ্রবাসী জসিম উদ্দিনের ছেলে। তিনি প্রাইম এশিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী ছিলেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দুই নারীর সামনে হাসাহাসির জেরে শনিবার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে একদল যুবক তাকে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করেন।


প্রায় ৯ বছর ধরে কুয়েতে থাকেন পারভেজের বাবা জসিম উদ্দিন। দুই সন্তানের সুন্দর ভবিষ্যতের আশায় প্রবাসী বাবা বাড়িতে একটি একতলা নতুন বাড়িও করেছেন। বাবা প্রবাসে থাকায় নতুন বাড়িটির সব কাজ একাই করিয়েছেন জাহিদুল। শনিবার ছেলের মৃত্যুর খবর পেয়ে রাতেই দেশে রওয়ানা দেন বাবা জসিম উদ্দিন। রোববার সকাল ৭টার দিকে তিনি গ্রামের বাড়িতে এসে পৌঁছান।


সন্তানের শোকে পাগলপ্রায় মা পারভীন আক্তার আহাজারি করে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন, জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন। জ্ঞান ফেরার পর আবারও কান্না শুরু করছেন। পারভীন আক্তার বলেন, ‘হেরারে আমার সামনে আন, আমি জিগাই কী অপরাধ আছিন আমার পুতের। কের লাইগ্যা আমার পুতেরে মারল হেরা। আমার স্বর্ণের পুতেরে হেরার মাইরালাইলো।’ সন্তানের শোকে পাগলপ্রায় মায়ের চিকিৎসায় বিকেলে চিকিৎসক ডাকা হয় বাড়িতে।


বাবা জসিম উদ্দিন বলেন, ‘সম্পূর্ণ জীবনটাই শেষ করে দিলাম সন্তানদের লাগি। সন্তানের জন্য টাকা-পয়সার দিকে তাকাই নাই, প্রাইভেট ইউনিভার্সিটি থেকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াইতেছি। আমার যত আয়রোজগার সব দুই সন্তানের পিছনে খরচ করি। আমার দুই সন্তানের মতো মেধাবী এলাকায় খুব কম।’


আহাজারি করতে করতে জসিম বলেন, ‘কেন হত্যা করল আমার ছেলেরে? কী অপরাধ ছিল ছেলের? আমার ছেলেরে কেন নৃশংসভাবে হত্যা করল? আমারে মাইরালাইতো। আমার সন্তানই যদি না থাকে আমার বাইচ্যা থাইকা কী লাভ? আমার এই বাড়ি দিয়া কী করি? তারা দুইটা হাত-পা ভাইঙ্গা দিত। খালি মুখ দিয়া আমায় আব্বা কইয়া ডাক দিত। আমি আমার সন্তানের আব্বা ডাকটা শুনতাম। যারা আমার সন্তানকে হত্যা করছে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। প্রকাশ্যে হত্যাকারীদের ফাঁসি হলে আমার ছেলের আত্মায় শান্তি পাইব।’

পারভেজের বাবা বিরুনীয়া ইউনিয়ন ছাত্রদলের ২০০৩ সালের কমিটিতে সদস্য ছিলেন। ছেলেও এলাকায় ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় ছিলেন বলে জানান ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে জেলা দক্ষিণ যুবদলের সহপ্রবাসীকল্যাণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম। তিনি বলেন, পারভেজ ঢাকায় পড়ালেখা করলেও এলাকায় এলে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে সক্রিয় হয়ে কাজ করতেন। তাদের পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। তিনি হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন।


এদিকে রোববার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে লাশবাহী অ্যাম্বুলেন্সে নিহত পারভেজের মরদেহ গ্রামে এসে পৌঁছায়। এ সময় শেষবারের মতো জাহিদুলকে দেখতে ভিড় করেন গ্রামবাসী। বাড়িতে মরদেহ নেয়ার পর কান্নায় ভেঙে পড়েন স্বজনরা। এশার নামাজের পর তার জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয় তার মরদেহ।

No comments:

Post a Comment

Post Bottom Ad

Pages